রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতেই জুলাই সনদ : আলী রীয়াজ
রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এই পরিবর্তনের বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন গণভোট নিয়ে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে এই সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার যাতে আর জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, কোন ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবলে মানুষ যাতে আর নিপীড়িত না হয় সেজন্য জুলাই সনদের কথাগুলো মানুষকে জানাতে হবে। ৫৪ বছরে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগ এসেছে হেলায় তা হারাতে দেয়া যাবে না।’
বক্তব্যে তিনি বর্তমান সংবিধানের ত্রুটিগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকার প্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হতো। এর মানে বিদ্যমান সংবিধানেই স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ খোলা রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, নতুন সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদের একটি ‘উচ্চকক্ষ’ থাকবে। সেখানে ১০০টি আসন থাকবে ভোটের সংখ্যানুপাতে। এর ফলে কোনো দল সরকার গঠন করতে না পারলেও যদি ৫ শতাংশ ভোট পায়, তবে তাদের অন্তত পাঁচজন প্রতিনিধি সংসদে থাকবে। এতে করে একক ইচ্ছায় সংবিধান পরিবর্তন করা আর সম্ভব হবে না।
অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি। গোলাপি ব্যালটে যে ‘টিক চিহ্ন’ রয়েছে, সেটিই হলো ‘হ্যাঁ’ এর প্রতীক। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যদি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন, তবে লাখ লাখ মানুষের রায় আসবে এই পরিবর্তনের পক্ষে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য ড. আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। সভায় বক্তারা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে এক ব্যক্তির ইচ্ছার হাত থেকে বাঁচাতে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।