জামায়াতের ৯০ পৃষ্ঠার ইশতেহার ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।
ইশতেহারে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দলটির অবস্থান পরিষ্কার করতে ‘৫টিতে হ্যাঁ’ এবং ‘৫টিতে না’—এই অভিনব কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের ইশতেহারে সততা, জাতীয় ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে দেওয়া হয়েছে ‘হ্যাঁ’। অন্যদিকে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে জানানো হয়েছে স্পষ্ট ‘না’।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। ইশতেহারের মূল লক্ষ্য হলো—শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচনের আমূল সংস্কার, জনপ্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী নির্বাচনি ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে সেগুলো হলো- ১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’- এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন। ২. বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন। ৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া। ৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে বিনির্মাণ। ৬. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন। ৭. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূলো আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ।
৮. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খ্যাত সংস্কারের মাখায়ে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই এ স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ। ৯. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা। জামায়াতের ৯০ পৃষ্ঠার ইশতেহার দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় হওয়া খুন, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা। ১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা।