গাড়ি সংঘর্ষের জেরে বাস ভাঙচুরের অভিযোগ জাবির আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের বিরুদ্ধে
সাভারের ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে চলন্ত একটি বাস থামিয়ে ভাঙচুর এবং বাস চালক ও এক যাত্রীকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আওয়ামীপন্থী এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহা জাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে স্ট্রাকচার কমিটির তদন্ত চলমান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর প্রায় দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) সংলগ্ন ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে।
সাভার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়ক দিয়ে চলার সময় অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহার ব্যক্তিগত গাড়িটি পেছন দিক থেকে এসে বাসটিকে অতিক্রম করে বাম দিকে বাঁক নেয়। এ সময় তার গাড়ির সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বাসটি থামিয়ে চালকের কাছ থেকে চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
চালক চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে পলাশ সাহা তার হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে বাসের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন। এতে ভাঙা কাঁচের আঘাতে বাস চালকের মাথা ফেটে যায় এবং বাসে থাকা এক নারী যাত্রীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে ও তার একটি আঙুল ভেঙে যায়।
ঘটনার পর আহত বাস চালক ও নারী যাত্রীকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে নারী যাত্রীর আঙুল ভেঙে যাওয়ায় এক্স-রে ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত শিক্ষক এবং তার বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
আহত নারী যাত্রীর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের বাসটি থামানো অবস্থায় ছিল। শিক্ষক নিজের গাড়ি ব্যাক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে বাসের কোনো দোষ ছিল না। পরিচয় দেওয়ার পর আমরা তাকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি আরও উগ্র হয়ে ওঠেন এবং হেলমেট দিয়ে বাসের কাঁচ ভেঙে ফেলেন। এতে আমার মেয়ের মাথা ফুলে গেছে এবং আঙুল ভেঙে গেছে। ড্রাইভারের মাথাও ফেটে রক্ত পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষক সমাজের কারিগর। তার আচরণে মানবিকতা ও সহনশীলতা থাকার কথা। কিন্তু এখানে আমরা চরম আক্রোশ ও সহিংসতা দেখেছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার ভুল হয়েছিল। তাই পরে বাস চালক ও আহত যাত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি। চালকের চিকিৎসার জন্য দুই হাজার টাকা খরচও দিয়েছি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য করা হবে।”