‘জনমত বাক্সে’ ৪০ হাজার মানুষ প্রধান উপদেষ্টাকে মনের কথা জানালো
দেশের সাধারণ মানুষ ঠিক কী ভাবছেন, কেমন বাংলাদেশ চান—সেই মনের কথা সরাসরি লিখে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘গণভোট ২০২৬’ উপলক্ষে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে দেশজুড়ে ঘুরেছে ‘ভোটের গাড়ি’। আর এই গাড়িতে রাখা ‘জনমত বাক্স’-তে জমা পড়েছে ৪০ হাজার ২০৬ জন নাগরিকের চিরকুট।
সারাদেশের জেলা-উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্পটে গিয়ে এই প্রচারণা চালানো হয়। এতে সাধারণ মানুষ তাদের ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার ও আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ নিয়ে নানা পরামর্শ দিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার ২১৬টি মতামত এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৬টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, খুলনা বিভাগ থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর বিভাগ থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, বরিশাল বিভাগ থেকে ২ হাজার ১২৪টি, ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এবং সিলেট বিভাগ থেকে ১ হাজার ৬৫১টি মতামত এসছে।
জনমত বাক্সে জমা পড়া চিরকুটগুলোতে উঠে এসেছে বিচিত্র সব দাবি ও আকাঙ্ক্ষা। গাজীপুর থেকে ১০ বছরের শিশু রাফা লিখেছে, ‘আমার পরামর্শ হলো—আমি এ দেশের মাটি ও বাতাসের মাঝে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে দেখতে চাই। এরকম একটা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে নীতি-নির্ধারক তৈরি করার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করুন।’
পিরোজপুর থেকে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকার দিতে হবে। সব ধর্মের মানুষের অধিকার দিতে হবে। সবাইকে বাক্স্বাধীনতা, অধিকার দিতে হবে। স্বাধীন বাংলায় সবার অধিকার থাকবে। পক্ষপাতিত্ব যেন না হয়। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একসাথে বাঁচতে চাই। সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা চাই।’
চট্টগ্রাম থেকে গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, ‘আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে কোম্পানির মালিককে সুযোগ করে দেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।’
কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, ‘সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। মানুষ চায় সুষ্ঠু ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে। কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা যাবে না। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। প্রধান উপদেষ্টা ভালো ভোট আয়োজন করবেন। শুভেচ্ছান্তে দেওয়ান সালাহউদ্দিন।’
ঠাকুরগাঁও থেকে একজন লিখেছেন, ‘গরিব মানুষ, দিন মজুরি করে খাই। গরুর মাংস আমরা কিনে খেতে পারি না। বাজার নিয়ন্ত্রণ চাই, সিন্ডিকেট চলছে বাজারে। গরিব মানুষ কিনে খাইতে পারছে না।’
দিনাজপুর থেকে লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা, বৃষ্টি লিখেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মনে রেখে দেশের সুন্দর এবং সুষ্ঠু সংস্কার চাই। নারী ও শিশুদের অধিকার, ধর্ষণের ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। রাজনৈতিক যে দলই ক্ষমতায় আসুক, শুধু দিনাজপুর না—দেশের সংস্কারে যেন সকলেই নিয়োজিত থাকে।’
বরিশাল থেকে সাদিক লিখেছেন, ‘যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবে না, সে দেশে সুন্দর আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব না।’
জনগণের এমন খোলামেলা ও আবেগঘন মন্তব্য পড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। জনগণের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাকে তিনি ‘অমূল্য সম্পদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, চিরকুটগুলোতে যে কেবল প্রশংসা আছে তা নয়, বরং সরকারের সমালোচনা বা কঠোর মন্তব্য যা-ই থাকুক না কেন, কোনো রকম কাটছাঁট ছাড়াই সব পরামর্শ ও নিন্দা চিরস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।