নির্বাচনে মাঠে থাকছে সাড়ে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য: ইসি সানাউল্লাহ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
নির্বাচন কমিশনার জানান, এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচনের নিরাপত্তায় ড্রোন এবং ২৫ হাজার ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা (শরীরে লাগানো ক্যামেরা) ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ৯০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা সরাসরি মনিটর করা হবে।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেক (৫০ শতাংশ) কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপার পাবেন—সাদা রঙের ব্যালটটি সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি রঙের ব্যালটটি গণভোটের জন্য। দুটি ব্যালটের ভোটই একসঙ্গে গণনা করা হবে।
তিনি জানান, ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তবে বিকেল সাড়ে ৪টার পরেও কেন্দ্রের সীমানার মধ্যে ভোটার থাকলে তাদের ভোট নেওয়া হবে।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে তিনি পরিষ্কার জানান, ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে ভোটারসহ কেউই মোবাইল নিতে পারবেন না। তবে সাংবাদিকরা নিয়ম মেনে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু গোপন কক্ষের ভেতর লাইভ বা ছবি তুলতে পারবেন না। নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভোট গণনা শেষে কেন্দ্র থেকেই ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে তা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আসবে এবং কমিশন থেকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গোয়েন্দা সংস্থাকে (বিএফআইইউ) নজর রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রের আনঅফিসিয়াল ফলাফল আগে ঘোষণা করা হলেও, রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থী বা তাদের এজেন্টের উপস্থিতিতে তা ‘ফর্ম ১৮’-তে লিপিবদ্ধ করবেন। এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশিত হবে।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার এবং ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটগ্রহণের মূল দায়িত্বে থাকবেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার। সর্বমোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
