গণতান্ত্রিক নবযাত্রায় জাবিতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত
দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পাদদেশে এই সংগীত আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বিভাগ, প্রশাসন ও ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে একসঙ্গে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘গণতান্ত্রিক শুভ সূচনার এই লগ্নে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার একত্রে জাতীয় সংগীত গেয়ে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। অতীতে যখনই দেশ পথ হারিয়েছে, জাতীয় সংগীত আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও এই সংগীত আমাদের নতুন উদ্যমে উজ্জীবিত করেছে। আজও আমরা সেই চেতনাকে ধারণ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করছি।’
অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, ‘দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এই আয়োজনের লক্ষ্য। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রায় আমরা সবাই অংশীজন হতে চাই। একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা থেকেই এই সমবেত আয়োজন।’
এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকটকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারীদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক শামসুল আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম, আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তামান্না আজিজ তুলিসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, সদস্য-সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকসহ বিভিন্ন ছাত্রনেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, জাতীয় সংগীতের এই সমবেত আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।