সংকটে জর্জরিত থেকে ববির ১৬ বছরে পদার্পণ
দক্ষিনবঙ্গের উচ্চশিক্ষা অর্জনের অন্যতম বিদ্যাপিঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) পা দিয়েছে ১৬তম বছরে। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সহজলভ্য করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংকট যেনো পিছু ছাড়ছে না বিশ্ববিদ্যালয়টির। শিক্ষক সংকট, ক্লাস রুম সংকট, পরিবহন সংকট, আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ববি’র সমসাময়িক বা তার থেকে কয়েকবছর আগে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর যতটা উন্নয়ন হয়েছে সেই অনুযায়ী ববি’র উন্নয়ন কিছুই হয়নি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যেসকল সংকটে জর্জরিত ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়টি, তার মধ্যে কোনোটিরই উল্লেখযোগ্য কোনো সমাধান হয়নি।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ববি’র প্রতি সেই রকম আচরণ করেন, যেরকম করা হয় পরিবারে অবহেলিত ভাবে বেড়া ওঠা সন্তানটির প্রতি। তবে এতসব সংকটের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি শিক্ষার্থীদের রয়েছে আকাশ সমান প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী গালিব বলেন, আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়–এর ১৬ বছরে পদার্পণ এটি একটি সময়ের মাইলফলক নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের সম্মিলিত ইতিহাস। প্রত্যাশা ছিল উচ্চমানের শিক্ষা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা। প্রাপ্তি হিসেবে আমরা পেয়েছি একাডেমিক সাফল্য, সহশিক্ষা কার্যক্রমে কৃতিত্ব এবং সমাজমুখী দায়িত্বশীল মানবসম্পদ।
তিনি বলেন, আমাদের অবকাঠামোগত সহ অনেকাংশে পরিপূর্ণতা না থাকলেও এর মধ্যে দিয়েই আমাদের সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। আশা করছি ভবিষ্যতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মানবিকতায় আরও সমৃদ্ধ এক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে।
আরেক শিক্ষার্থী ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের রনি খান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একযুগ পার হয়ে গেলেও এখনো বিশ্বিদ্যালয়টি স্বয়ংসম্পূর্ণতা পায়নি। এখানে নানা সীমাবদ্ধতার ভিতরে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নগুলো দোদ্যুল্যমান অবস্থায় রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে প্রায় ১০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী অধ্যয়ণরত। কিন্তু দুংখজনক হলেও এটি সত্য যে এখানে মাত্র ১৫-২০% শিক্ষার্থী আবাসনের আওতায় রয়েছে। আর বাকি সিংহভাগ শিক্ষার্থীকে উচ্চেমূল্যে বাসা-ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এছাড়াও ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক সংকট, লাইব্রেরিতে বই এবং আসন সংকট, কমনরুম সংকটে শিক্ষার সঠিক মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই, শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্বিদ্যালয়ের সংকট দূরীকরণ করা অতীব জরুরি।