জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ ধর্ষণের অভিযোগে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষার্থীর সনদপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, লোক প্রশাসন বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন যে, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)-এর ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এস. এম. তারিকুল ইসলাম গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে বীর প্রতীক তারামন বিবি হল এলাকা থেকে তাকে হুমকি দিয়ে পার্শ্ববর্তী ইসলামনগরে ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ ধর্ষণ করে।
ঘটনার তদন্তপূর্বক সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তারকে সভাপতি করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন সুলতানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অভিযুক্ত এস. এম. তারিকুল ইসলামের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরসহ সব সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।