শিক্ষিকা হত্যার ঘটনায় ইবিতে বিএনপি ও জামাতপন্থী শিক্ষক সংগঠনের মানববন্ধন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মচারী ফজলুর রহমান কর্তৃক সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’ -‘ইউট্যাব’ এবং জামাতপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘গ্রীণ ফোরাম’।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধনে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়া মানববন্ধনে একাত্মা জানিয়ে শাখা ছাত্রদল, শাখা ছাত্রশিবির ও শাখা ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দ্রুততম সময়ে রুনা হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি অনিরাপদ স্থানে অবস্থিত। এজন্য সকল ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে ইউনিক আইডেনটিটির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যত থোক বা ডে লেবার হিসেবে কাজ করে প্রত্যেকের ডাটা সংগ্রহ করতে হবে, যেন পরবর্তীতে তাদেরকে আমরা আয়ত্তে রাখতে পারি।
জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, ৯৫’র নভেম্বরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছি। শিক্ষকদের উপর বিভিন্ন ধরনের হামলা দেখেছি, এ ধরনের হামলায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। দুঃখজনক বিষয় হলো একটি হামলারও এখন পর্যন্ত বিন্দুমাত্র বিচার হয়নি। বিচার না হওয়ার সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে এই নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড। এই হত্যাকাণ্ড হতো না যদি ঐ বিচার গুলো হতো।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তার ব্যাপারে পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যূনতম একটি বিবৃতি আমরা পাই নাই। মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের কাছে একটাই অনুরোধ করব, আপনি এই দুই খুনের বিচারের জন্য প্রশাসনের কাছে যতটুকু আগানো সম্ভব আপনি আগান। প্রয়োজন বোধে আমরা যাব।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিচার না পান, রেসপন্স না পান, আমরা রাস্তায় নামবো। কিন্তু আপনি উদ্যোগ নেন, বসে থাকবেন না। ছাত্র হত্যার ব্যাপারে যতটুকু রেসপন্স দেখেছি আমরা সন্তুষ্ট নয়, এটা পরিষ্কার কথা। আমার মনে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের ভেতর থেকে এরকমই রেসপন্স পেয়েছি তারাও সন্তুষ্ট নয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও যদি একই ঘটনা ঘটে যে, পুলিশের কাছে গেছে পুলিশ ঘুরছে, আর ঘুরছে তাহলে সেটা খুবই বেদনাদায়ক হবে।
শিক্ষিকা রুনা হত্যার ঘটনায় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আমি দল, মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা সবাই সহযোগিতা করবেন, যদি আপনারা সহযোগিতা না করেন তাহলে কিন্তু আমাদের দোষারোপ করে লাভ হবে না।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহ আমরা আমাদের সহকর্মীকে হারিয়েছি। তাকে তার পরিবার হারিয়েছে, স্বামী তার স্ত্রীকে হারিয়েছে, নাবালিকা সন্তান তার মাকে হারিয়েছে, বৃদ্ধ পিতা তার সন্তানকে হারিয়েছে, সে কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার নয়। আল্লাহ তায়ালা অপরাধীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারি সেই তৌফিক আমাদের দান করুন।
তিনি আরও বলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো কাজের অগ্রগতি না দেখাতে পারেন তাহলে ভর্তি পরীক্ষার পরে আমরা এই শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে পরবর্তীতে কর্মসূচি ঘোষণা করব।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকান্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণভাবে একটি তদন্ত কমিটি করেছি এবং এই বিভাগ যাতে সচল থাকে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। রুনার অকাল মৃত্যুতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, রুনা আমাদের হৃদয়ে সারাজীবন জাগরক থাকবে। যত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অপরাধী চিহ্নিত করণ, অপরাধীকে গ্রেফতার এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশাসন যত ধরনের সহযোগিতা চাবে আমরা তত ধরনের সহযোগিতা দিব। এই ব্যাপারে কোন ধরনের কার্পণ্য করা হবে না এবং সেটা ট্রান্সপারেন্ট ওয়েতে প্রদান করা হবে। অপরাধী সহ যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদেরকে সুষ্ঠ এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে হত্যার বিষয়ে সবাইকে চিহ্নিত করা হোক।
তিনি আরও বলেন, গআমরা প্রশাসনের কাছে, বিচার প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই ধরনের ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয় এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়ায়ে দিব। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঠেলে সাজানোর জন্যে ছাত্র শিক্ষক সবার পরামর্শ মতে আমরা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ।