ববিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে গ্রুপ খুলে চাঁদা দাবির অভিযোগ দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর তা সরিয়ে নিতে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেইজ “লিংকার্স ইন বরিশাল ইউনিভার্সিটি”-এর এডমিন ও মডারেটরের বিরুদ্ধে।
এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপটিতে কোচিং সেন্টারের পরিচালক রিয়াজ হোসেন এবং “লিংকার্স” পেইজের মডারেটর, মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান মুন্না (ওরফে আহম্মেদ মুন্না)-এর কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে ইমরান মুন্নাকে বলতে শোনা যায়, ‘৬০ হাজার টাকার কেস ভাই। আমাদের প্যানেল (এডমিন ও মডারেটর প্যানেল) চালাতে হলেও তো কিছু খরচ থাকে।’
অডিও ক্লিপটিতে আরও শোনা যায়, বিষয়টি সমাধানের জন্য পেইজটির এডমিন এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মুকতাদির রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন ইমরান মুন্না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোচিং সেন্টারের পরিচালক রিয়াজ হোসেনের কাছে বিভিন্ন সময়ের শিক্ষকদের বকেয়া বাবদ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। ওই বকেয়া পরিশোধ না করায় কয়েকজন শিক্ষক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে “লিংকার্স” পেইজে এ নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া নিয়ে পেইজ কর্তৃপক্ষ ও কোচিং সেন্টারের পরিচালকের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রায়হান নামে এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, ‘আগে বিসিএস দেওয়ার শখ ছিল, কিন্তু এখন একটা পেজ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ইব্রাহিম সিকদার নামে আরেকজন লেখেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গেলেও শয়তানি ছেড়ে যায়নি। লিংকার্সকে নিরপেক্ষ জায়গা থেকে চাঁদাবাজির প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রিয়াজ হোসেন বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে এবং তার প্রতিষ্ঠানকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, গত ৪ মার্চ লিংকার্স পেইজ থেকে তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন বকেয়া নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। পরদিন ৫ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে লিংকার্সের মডারেটর ইমরান মুন্না এবং তার এক সহযোগী তার অফিসে এসে সরাসরি ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরিস্থিতির চাপে পড়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেন তিনি।
রিয়াজ হোসেন আরও বলেন, ‘কিছু টাকা শিক্ষকরা আমার কাছে পাবে। আমি তা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কিন্তু অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করায় বিষয়টি আমার পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পেজটির মডারেটর ইমরান মুন্না বলেন, ‘এখানে কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।’
অন্যদিকে পেজটির এডমিন মুকতাদির রিজভী বলেন, রিয়াজের কোচিং সেন্টারের কয়েকজন শিক্ষকের বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে পেইজে পোস্ট করা হয়। পরবর্তীতে রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমঝোতার চেষ্টা করেন এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেন।
তবে মডারেটর ইমরান মুন্নার বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।