ঈদের লম্বা ছুটিতে নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। ছুটির প্রথম দিনেই গ্রামে ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে। ভোর থেকেই নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজধানী।
গতকাল সোমবার ছিল শেষ কর্মদিবস। বিকেলের পর থেকেই ঢাকা ফাঁকা হতে শুরু করলেও আজ সকাল থেকে সেই চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় যানবাহনের জটলাও বাড়ছে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে অনেক যাত্রীই বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ তুলেছেন। নোয়াখালীগামী সাবিত হাসনাইন জানান, নিয়মিত ৪৫০ টাকার ভাড়া এখন নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাসে ৭০০ টাকার বদলে ১২০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। টিকিট পেতেও সাধারণ মানুষকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
গতকাল সরকারি অফিসগুলোতে ছিল শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যাগ গুছিয়েই অফিসে এসেছিলেন। কাজ শেষ করে বিকেলেই তাঁরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে ঢাকা ছাড়েন। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছেন সড়ক ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, “যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক সফর নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
গাজীপুর ও এর আশপাশের পোশাক কারখানাগুলোতে এবার ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে। যানজট এড়াতে পুলিশ ও মালিকপক্ষ মিলে ধাপে ধাপে কারখানা ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এর ফলে একসঙ্গে কয়েক লাখ শ্রমিকের রাস্তায় নামার চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈদে মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ঈদে ঢাকা খালি হয়ে যাওয়ায় ছিনতাই, মলম পার্টি বা অন্য কোনো অপরাধ যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ শবেকদরের ছুটি এবং ১৮ মার্চ মন্ত্রিসভার বিশেষ অনুমোদনে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষিত হওয়ায় এবার টানা সাত দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবিরা। ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয়ে এই ছুটি চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।