বাড়ি না ফেরা শিক্ষার্থীদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগিতে সামিল হল প্রভোস্ট ড. কামরুজ্জামান
ঈদের ছুটিতে বাড়ি না ফেরা শিক্ষার্থীদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ নিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) জুলাই-৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান। আজ শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জুলাই-৬ হল ও স্বাধীনতা হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন।
হল প্রভোস্টের মনোবল ও তীব্র ইচ্ছারই যেন এক বহিঃপ্রকাশ এই মধ্যাহ্নভোজ। এমনটাই দাবি করছেন হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন ক্যাম্পাস ছুটি থাকায় প্রভোস্ট নিজে থেকেই হলে অবস্থানরত মুসলিম ও অমুসলিম শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজ-খবর নিয়ে আসছিলেন। তিনি সবার সাথে ফোন কলে যোগাযোগ করেন এবং মধ্যাহ্নভোজের বিষয়টি অবহিত করেন।
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী স্বয়ন বর্মন বলেন, নানান কারণে এবারের ঈদে আমাদের বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, এবার বাড়ি না গেলেও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই আমাদের তদারকি করা হচ্ছিল। আজকে আমাদের সবাইকে নিয়ে হল প্রভোস্ট ড. কামরুজ্জামান স্যার মধ্যাহ্নভোজ করলেন। বিষয়টি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এজন্য আমি হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী কৃপাসিন্ধু অধিকারী বলেন, এবারে ছুটিতে আমার বাড়ি যাওয়া হয়নি। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকে আমাদেরকে নিয়ে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এজন্য আমি হল প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ও তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে হল প্রভোস্টকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ তিনি আমাদের ফোন দিয়ে দিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছিলেন। সামনের দিনগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এই প্রত্যাশা করি।
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটিতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বাড়ি গেলেও জুলাই-৬ হল ও স্বাধীনতা হলের কিছু শিক্ষার্থী হয়তোবা তাদের রিসার্চ, টিউশন, পরীক্ষা বা ব্যক্তিগত কারণে বাড়ি যেতে পারেনি। আমি তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলি এবং তাদেরকে নিয়ে আমি একটি আয়োজন করবো এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের কাছে যেতে পারেনি তাতে কি হয়েছে? আমরাইতো তাদের অভিভাবক। আমি এজন্য তাদেরকে নিয়ে আজকে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাস্বরূপ এই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছি। ঈদের আনন্দ হলে অবস্থানরত সবার সাথে ভাগাভাগি করতে পেরেছি এজন্য নিজের কাছে অনেক ভালো লেগেছে। যেকোনো প্রয়োজনে আমি আমার হলের সকল শিক্ষার্থীদের পাশে আছি ইনশাআল্লাহ।