গ্রেপ্তার হয়েছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযান ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। একই সঙ্গে নেপালের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
গত বছর দেশজুড়ে চলা বিশাল গণঅভ্যুত্থানে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহতের ঘটনায় তাঁদের জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি তাঁদের বিরুদ্ধে ‘ফৌজদারি অবহেলা’র মামলা করার সুপারিশ করার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুতই তা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও স্থবির অর্থনীতির বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়। পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। এর মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর স্কুল ড্রেস পরা এক কিশোরসহ ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা সাধারণ মানুষকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং জনরোষের মুখে গত ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ৭৪ বছর বয়সী কেপি শর্মা অলি।
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৩৫ বছর বয়সী সাবেক র্যাপার বালেন শাহ শপথ নেওয়ার মাত্র একদিন পরই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। বালেন শাহের দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) গত ৫ মার্চের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে ইতিহাস গড়েছে।
নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং—যিনি নিজেও ওই বিক্ষোভের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন—এই গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই। এটা কোনো প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের শুরু।’
কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন, অলি ও লেখককে আজ সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেপি শর্মা অলি আগে থেকেই এই তদন্ত কমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘চরিত্র হনন ও ঘৃণার রাজনীতি’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন।
উল্লেখ্য, সাবেক পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুং-এর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করেছে কমিশন।