হামের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসোলেশন ও আইসিইউ প্রস্তুত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সুবিধার অভাব রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
আইসিইউ সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ থাকা একটি আইসিইউ ইউনিটকে মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ দিয়ে পুনরায় সচল করা হয়েছে।
এছাড়া রাজশাহীতে হামের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘শিশুদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেখানেই প্রয়োজন হচ্ছে, দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
দেশে হামের প্রকোপ বাড়ার কারণ হিসেবে বিগত সরকারের টিকাদান কর্মসূচির ব্যর্থতাকে দায়ী করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের পর দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর কোনো হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় অনেক শিশু টিকাবঞ্চিত থেকে গেছে। তারাই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।’
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১৮টি জেলা ও ৩০টি উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। কার্যক্রমের প্রথম দিনেই প্রায় ৯৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের সহায়তায় টিকা সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিক ও স্বচ্ছভাবে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।