এক যুগ পর রিয়ালের বিপক্ষে জয় : সেমিফাইনালের পথে বায়ার্ন
বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা আবারও প্রমাণ করলেন ম্যানুয়াল নয়্যার। ৪০ বছর বয়সেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যূয়ের গোলপোস্টে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই জার্মান কিংবদন্তি। নয়ারের দুর্দান্ত সব সেভ আর লুইস দিয়াস ও হ্যারি কেইনের গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে তাদেরই মাঠে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিনগত রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে সফরকারী বায়ার্ন। রিয়ালের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১২ বছর পর রিয়ালের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল বায়ার্ন। এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে সবশেষ স্প্যানিশ জায়ান্টদের হারিয়েছিল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে ওঠে। দুই দলই ২০টি করে শট নিয়ে প্রতিপক্ষকে তটস্থ করে রাখে।
ম্যাচের নবম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সূবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বায়ার্ন। জসুয়া কিমিখের পাস বক্সের মধ্যে রিসিভ করেন হ্যারি কেন। তিনি পাস দেন উপামেকানোকে। রিয়ালের গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিন এগিয়ে আসায় উপামেকানোর সামনে গোলবার ছিল ফাঁকা। গোলবারে শটও নিয়েছিলেন তিনি। তবে তাতে গতি ছিল না। গোললাইন থেকে সেটি ক্লিয়ার করেন আলভারো ক্যারিয়াস।
ম্যাচের ১৬ ও ১৮ মিনিটে এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়াসের নিশ্চিত দুটি গোল রুখে দিয়ে বায়ার্নের জাল অক্ষত রাখেন নয়্যার।
২৮তম মিনিটে গড়বড় করে বসে রিয়ালের ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার থিয়াগো। ডি-বক্সেই লুনিনের পাস ধরে কী বুঝে ব্যাকপাস দেন, যখন গোলরক্ষকের সামনেই ছিলেন সের্গে জিনাব্রি। বায়ার্ন ফরোয়ার্ড তড়িৎ প্রথম ছোঁয়ায় শটও নেন, তবে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি।
এক মিনিট পরই প্রতিআক্রমণ থেকে ওঠে রিয়াল। ফেদেরিকো ভালভার্দের চুলচেরা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দূরের পোস্টে শট নেন এমবাপ্পে। ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্ণারের বিনিময়ে সেটি আটকে দেন গোলরক্ষক নুয়ার।
ম্যাচের ৪১তম মিনিটে আর বায়ার্নকে আটকে রাখতে পারেননি লুনিন। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমজমাট লড়াইয়ে ডেডলক ভাঙেন লুইস দিয়াস। জিনাব্রির পাস থেকে নিখুঁত শটে বায়ার্নকে ১-০ তে এগিয়ে নেন তিনি।
বিরতি থেকে ফিরেই ব্যবধান দ্বিগুন করে বায়ার্ন। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে বলের দখল নিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে বায়ার্ন। বক্সের মুখে রিয়ালের কয়েকজন ডিফেন্ডার মাঝখান দিয়ে ফাঁকায় থাকা কেইনকে পাস দেন মাইকেল ওলিসে। দূরের পোস্ট দিয়ে কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন বায়ার্নের এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
চোট কাটিয়ে ফেরা ইংলিশ তারকার মৌসুমে গোল হলো ৪১ ম্যাচে ৪৯টি। এর মধ্যে ১১টি এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে।
ঘরের মাঠে ২-০ তে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। এমবাপ্পে বারবার সুযোগ তৈরি করলেও নয়্যারের দেওয়াল ভাঙতে পারছিলেন না তিনি।
অবশেষে ৭৪ মিনিটে ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। ম্যাচে প্রথমবার পরাস্ত হন নয়্যার। ট্রেন্ট-অ্যালেকজ্যান্ডার আর্নল্ড গোলমুখে দুর্দান্ত ক্রস বাড়ান, আর পা বাড়িয়ে বল লক্ষ্যে পাঠান এমবাপ্পে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপ্পের গোল হলো ১৪টি, মৌসুমে সব মিলিয়ে হলো ৩৭ ম্যাচে ৩৯টি।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় রিয়াল। ভিনিসিউস ও এমবাপের প্রতিটি শটে গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়ালেও বায়ার্নের রক্ষণভাগ ভাঙা সম্ভব হয়নি।
নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে জামাল মুসিয়ালা সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ‘লস ব্লাঙ্কোস’দের।
এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে থাকল বায়ার্ন মিউনিখ। তবে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে আগামী বুধবার বায়ার্নের ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফিরতি লেগের কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে দুই দলকেই।