বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা, থানায় মামলা দায়ের
দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগতরাতে বাঁশেরহাট এলাকায় এ হামলার শিকার হন নাফিস মোর্শেদ চৌধুরী নামে এক ছাত্র। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী নাফিস মোর্শেদ চৌধুরী তার দুই নারী সহপাঠীকে নিয়ে বাঁশেরহাট বাজার সংলগ্ন বিসিএস গলিতে হাঁটছিলেন।
এ সময় স্থানীয় অভিযুক্ত মো. সজিব (২৬) ও মো. জুয়েল ইসলামের (৩৫) নেতৃত্বে একদল যুবক তাদের পথরোধ করে এবং অশালীন মন্তব্য শুরু করে। বখাটেদের গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে জুয়েল ইসলামের নির্দেশে সজিব ধারালো ‘বাঁশের ফালা’ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নাফিসের কপালে প্রচণ্ড আঘাত করে। এতে তার কপাল গভীরভাবে কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলেন, “কপালে ৮টি সেলাই লেগেছে, মাথার খুলি ফেটে গেছে। আপাতত কিছুটা আশংকামুক্ত তবে আমরা ওকে আমাদের পর্যবেক্ষনে রেখেছি।”
ঘটনার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান বাদী হয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৭ (হত্যার চেষ্টা) ও ৩২৪ ধারাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রক্টর বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীর ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং পুলিশকে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের অনুরোধ জানিয়েছি।আশা করি এর সুষ্ঠ বিচার হবে।”
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত একজন আসামীকে ধরা হয়েছে বাকিদের ধরার জন্য অভিযান চলছে।”
হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—সজিব, জুয়েল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ছেলেসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।