আলোচিত রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় ৭ জুন
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই দিন ঠিক করেন।
আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। শুনানির সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি স্বপ্না আদালতে অসংলগ্ন ও উদ্ভট আচরণ করতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিচারক ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। বিচারক তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আদালতে বিশৃঙ্খলা করলে তাদের এখনই কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু শুনানিতে দাবি করেন, সোহেল রানা সুস্থ মস্তিষ্কেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি জানান, আসামির দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অপরাধের বিষয়টি দিনের মতো পরিষ্কার।
পিপি আরও বলেন, প্রধান আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করা, লাশ গুমের চেষ্টা এবং আসামিকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। আসামিপক্ষ মামলাটিকে দীর্ঘায়িত করতে ডলারের বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে কৌশলে নিজ ফ্ল্যাটে ডেকে নেয় আসামি স্বপ্না। এরপর তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। ঘটনার পর রামিসার বাবা-মা আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। পরে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকলে মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার মাথা উদ্ধার করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
