জুলাই হামলার বিচারকে ‘আপসমূলক’ আখ্যা দিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তকে ‘আপসমূলক’ ও ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই হামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তি অপরাধের তুলনায় অত্যন্ত লঘু। বিশেষ করে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে কেবল বেতন স্কেল কমানো এবং পাঁচ বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তকে ‘নামমাত্র শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আরও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত ছিল। সংগঠনটি অভিযোগ করে, হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক এবং তৎকালীন ট্রেজারার অধ্যাপক রাশেদা আখতারের বিষয়ে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনকে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার কৌশল হিসেবে দেখছে ছাত্র ইউনিয়ন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অনেকেই কার্যত শাস্তির বাইরে থেকে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়াকে প্রশাসনের সঙ্গে অভিযুক্তদের ‘আপসের প্রমাণ’ বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন জাকসুর ভূমিকারও সমালোচনা করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। তাদের দাবি, বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় থাকলেও জুলাই হামলার বিচার প্রশ্নে জাকসু নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ছাত্র ইউনিয়ন বলেছে, জুলাই আন্দোলন ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে সংগঠনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায়।