গাইবান্ধায় রামমন্দির নির্মাণে বাধা ও ধর্মীয় অবমাননার প্রতিবাদে রাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
গাইবান্ধায় রামমন্দির নির্মাণে বাধা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— ‘প্রতিমাতে আঘাত, ‘থেমে কেন প্রতিবাদ?’, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা সবার সাংবিধানিক অধিকার,’ ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাস করো’, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় অনুভূতি কি একপাক্ষিক?’, ‘ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা চাই’, ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে ধর্মীয় সম্মান রক্ষা করুন’, ‘অনুভূতি কি শুধু মরবে?’ এবং ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিচার চাই’।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বন্ধ কর, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়’, ‘বৈষম্য দূর কর, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়’, ‘সনাতনীর অধিকার, রক্ষা করো এইবার’ এবং ‘ধর্ম যার যার, অধিকার সবার’ স্লোগান দেন।
সমাবেশে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. অমিত কুমার দত্ত বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যেখানে গত ৮০ বছরে আমাদের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ কমে গেছে এবং আমাদের যত সম্পদ ছিল তার ৯০ শতাংশ আমাদের হাত থেকে চলে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ থেকেই বোঝা যায় এদেশের সনাতনীরা কোন পর্যায়ে আছে। এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমরা; তবুও আমরা আলাদা করে কোনো স্বীকৃতি চাইনি। আমরা চাই সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে, আমরা চাই সবার সমান অধিকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে কোনো ধরনের বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রকে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’
সমাবেশে বক্তব্য দেন বকুল চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবারই রাষ্ট্রের কাছে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছি। একই দেশ, একই কর, একই শিক্ষাব্যবস্থা, তারপরও দুটি গোষ্ঠীর জন্য দুই রকম আইন। আমরা ১৯৭১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেখতে পাই এ রাষ্ট্র বিনির্মাণে, রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে, সংস্কৃতিতে আমাদের যথেষ্ট অবদান আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় ধর্মমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দেশের কোথাও যদি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয় তাহলে আমি পদত্যাগ করব।’ আমরা বলব, আপনার পদত্যাগ করতে হবে না; আপনারা শুধু বিচার করুন।’
সমাবেশ থেকে বক্তারা গাইবান্ধার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সকল ধর্মাবলম্বীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
