জাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানো, অবগত নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম। এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের কাছে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বটতলা এলাকায় সুজন হোটেলের দেয়ালে ছাত্রলীগের একটি পোস্টার দেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের ব্যানার লাগানো ও ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও বাহিরে মিছিল দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
সার্বিক এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের ফেসবুক পোস্টে আবু তৌহিদ মো. সিয়াম দাবি করেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ গোপনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
পোস্টে তিনি লেখেন, “তারা নিয়মিত মিটিং করছে। ক্যাম্পাসের আশপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছে গোপন আস্তানা। জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনের ভেতর ঢুকে স্যাবোটাজ করতে আসা অনেক সাবেক লীগাররা এখনো ক্যাম্পাসে বসে এই নেটওয়ার্কে সহায়তা করছে। প্রকাশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনরাত লীগের হয়ে কনসেন্ট ম্যানুফ্যাকচার করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “একটা খুনি সংগঠন তার পুরোনো চেহারা বদলে আবার শিকড় গাঁড়ছে সেই ক্যাম্পাসেই, যেখান থেকে তারা অভ্যুত্থানের মুখে বিতাড়িত হয়েছিল।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিয়াম। তিনি লেখেন, “এই কার্যক্রম মাসের পর মাস ক্যাম্পাসে চলছে, আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একদম নির্বিকার। কোনো পদক্ষেপ নাই।”
পোস্টে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রশাসন অবিলম্বে তদন্ত করুক। জড়িতদের চিহ্নিত করুক। আইনের আওতায় আনুক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, “আমরা জানিনা কোথায়, কবে এবং কারা পোস্টার লাগিয়েছে। তবে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করছি। আমরা দেখছি কবে, কোথায় কি ঘটেছিল, কারা পোস্টার লাগিয়েছিল। আমরা এ ব্যাপারে পুলিশের সহায়তা নিয়ে কাজ করছি।”