মেসির জাদুতে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা
ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করে বসেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা ভক্তদের মনে তখন একরাশ হতাশার মেঘ, আর সমালোচকদের মুখে চওড়া হাসি। তবে ফুটবল জাদুকর তো তিনিই, যিনি সমালোচনার জবাব দেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। পেনাল্টির সেই ভুলকে পেছনে ফেলে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ফিরলেন তাঁর আপন মহিমায়। দুটি দর্শনীয় ফিনিশিংয়ে অস্ট্রিয়ার জাল কাঁপিয়ে কেবল দলের জয়ই নিশ্চিত করলেন না, বরং নিজের রেকর্ড ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন বিশ্বমঞ্চের এক অনন্য ইতিহাসে।
আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ‘জে’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার পর অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করার পাশাপাশি নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল লিওনেল স্কালোনির দল। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে অস্ট্রিয়া।
আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার এই দ্বৈরথ শুরু থেকেই ছিল উচ্চগতির এবং টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। বল দখল, নিখুঁত পাসিং আর গতিময় কাউন্টার অ্যাটাকে দুই দলই সমানে-সমান লড়াই করছিল। ম্যাচের ১১তম মিনিটে বড় সুযোগটি আসে আর্জেন্টিনার সামনে। অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
তবে সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে লিওনেল মেসির নেওয়া স্পট কিকটি ডান পাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এই মিসের পর আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি কিছুটা কমে আসে এবং অস্ট্রিয়া আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে থাকে।
তবে ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে সব হিসাব পাল্টে দেন এলএমটেন। ডি-বক্সের ভেতরে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে নিজের জন্য চমৎকার জায়গা তৈরি করেন মেসি। এরপর এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
এই গোলের সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন ইতিহাস লেখেন মেসি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল তার ১৭তম গোল। যার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি এককভাবে নিজের করে নেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।
প্রথমার্ধের বাকিটা সময় লড়াই ছিল সমানে-সমান। অস্ট্রিয়া ৩টি শট নিয়ে ১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে, যেখানে আর্জেন্টিনা ৭টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রাখে। প্রায় ৫৮ শতাংশ বল দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
বিরতির পর ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একদল ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া, অন্যদল সমতা ফেরাতে ব্যাকুল। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের তুমুল ছন্দে খেলা চললেও কোনো দলই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না। ম্যাচের ঘড়ির কাঁটা যতই শেষের দিকে এগোচ্ছিল, অস্ট্রিয়া সমতা ফেরানোর জন্য কানাঘুষো আক্রমণ বাড়াতে থাকে। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো ১-০ ব্যবধানেই শেষ হতে চলেছে।
কিন্তু নাটকের শেষ অঙ্ক তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়ার ডিফেন্স কানাডার গোললাইনের সামনে প্রথম শটটি আটকে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে যান ওঁৎ পেতে থাকা মেসি। দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ২-০ ব্যবধান দ্বিগুন করেন অধিনায়ক।
এই গোলের পরপরই রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে উল্লাসে ফেটে পড়ে ডালাসের গ্যালারিতে থাকা আকাশি-সাদা সমুদ্র।