দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ছাত্র প্রতিনিধিসহ জাবির ৪৩তম সিনেট অধিবেশন
দীর্ঘ প্রায় ৩৪ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকে নিয়ে শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হয়।
সিনেটে অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হলেন— জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল ফাহিম, নারী এজিএস আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা, সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সাফায়েত মীর এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আবু তালহা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সিনেটে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। তবে ১৯৯২ সালের পর জাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় এসব আসন শূন্য ছিল।
২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ১০ম জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৩ বছরের সাংবিধানিক শূন্যতার অবসান ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ৪৩তম সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই ফোরামে শিক্ষার্থীদের মতামত, দাবি ও স্বার্থ সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চা, অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অন্যান্য সিনেট সদস্যদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, নীতিনির্ধারণ, শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সিনেটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আহসান লাবিব বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৩ বছর পর বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। একই সঙ্গে এটি আমার জন্য বড় দায়িত্ব। দলমত নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে চাই। তাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো সিনেটে তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করব।’
